অলৌকিক

1
391

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান মোহাম্মদী ইসলামের সবক দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন

আশেকে রাসুল হাজী আবুল কালাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম মীরেরশরই উপজেলাধীন দক্ষিণ আলিনগর গ্রামের অধিবাসী। তিনি প্রথম জীবনে আবুধাবীতে চাকুরি করতেন। ঘটনাটি ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের, তখন তিনি আবুধাবীতে চাকুরি করতেন। ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার বাসনা তার দীর্ঘ দিনের। এ তীব্র বাসনাই তাকে আবুধাবীতে পরিচয় করিয়ে দেয়, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের মুরিদ সন্তান আশেকে রাসুল আবদুল বারেকের সাথে। তিনি আবুল কালামকে বললেন- বাংলাদেশে আমার একজন মুর্শেদ আছেন, আর তিনি হলেন, যুগের ইমাম মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান। অতঃপর তিনি আশেকে রাসুল আবদুল বারেকের কাছ থেকে এ মহামানবের মহান শিক্ষা, ধর্মীয় সংস্কার, অলৌকিক ক্ষমতা ও তাঁর প্রচারিত মোহাম্মদী ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়ে যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের নাম মোবারক শোনা মাত্রই তিনি আল্লাহর এই বন্ধুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। অতঃপর ক্রমেই তাঁর প্রতি আবুল কালামের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অন্তরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আবুল কালাম সাহেব তখন আল্লাহ্র এ বন্ধুকে স্বচক্ষে দেখার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন। এক অজানা প্রেমাকর্ষণে তিনি যেন তাকে কাছে ডাকছেন। অবস্থা এমন হলো যে, যখনই তাঁর (সূফী সম্রাটের) কথা স্মরণ হয়, তখনই তার ভীষণ কান্না পায়, চোখের জলে তার বুক ভেসে যায়। তিনি তার কাছে মুরিদ হয়ে মোহাম্মদী ইসলামের অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই তো আর আবুধাবী থেকে চট করে বাংলাদেশে আসা যায় না, এদিকে তার আর বিলম্বও সহ্য হচ্ছিল না। সে বারবার ঐ আশেকে রাসুল আবদুল বারেকের সাথে সাক্ষাৎ করতে থাকে এবং একে একে জেনে নেয়, যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) দয়াল দরদী কীভাবে মানুষকে তরিকার সবক দেন, তাঁর তরিকায় শামিল হওয়ার পর ওয়াজিফার কী কী আমল করতে হয়। বিষয়টি অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর চেষ্টার মত ছিল। কিন্তু এ চেষ্টা তার তৃঞ্চা আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিলো। তিনি মনে মনে আরজ করলেন- “ওগো আল্লাহর বন্ধু, যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগী! রাসুলের যুগে রাসুলের দেশে জন্মগ্রহণ না করেও যদি হযরত রাসুল (সা.)-কে বিশ্বাস করার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষ মুসলমান হতে পারে, তবে আমি কেন আবুধাবীতে বসে আপনাকে বিশ্বাস করে আশেকে রাসুল হতে পারব না?” এ সময় তিনি নিজেকে যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের একজন মুরিদ মনে করে তরিকার আমল করতে শুরু করে।

এক রাতের ঘটনা। রাতে ইবাদত-বন্দেগি, ওয়াজিফা আমল করছিলেন, এমন সময় মহান মুর্শেদ, যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের মহব্বতে তার বুক ফেটে কান্না আসছিল। তাঁকে দেখার জন্য, কাছে পাওয়ার জন্য তিনি গলাকাটা মুরগির মত ছটফট করছিলো। আরজ করলেন, “হে আল্লাহর বন্ধু! আপনি তো সবই দেখেন। বাবা! আমি তো আর সহ্য করতে পারছি না। বাবা! দয়া করে আমাকে আপনার নুরের চেহারা মোবারকের দর্শন দিয়ে আমার তাপিত হৃদয়কে শীতল করুন। এমনিভাবে আজিজি করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানি না। ফজরের আজানের ধ্বনিতে আমার ঘুম ভাঙ্গে। ফজরের নামাজ শেষ করে আমি বসে আছি। ব্যথাভরা হৃদয়ে বাবাজানকে স্মরণ করে অঝোর নয়নে কাঁদছি। এ সময় আল্লাহর বন্ধুর যে প্রেমাকর্ষণে আমি জ্বলছি, তা সহ্য করা আমার পক্ষে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠল। ঠিক তখনই আমি দেখতে পাই, আবুধাবীর আকাশে একজন জ্যোতির্ময় মহামানব পাখির মত উড়ে উড়ে আমার দিকে ভেসে আসছেন। অতঃপর তিনি দয়া করে আমার সম্মুখে তশরিফ নিলেন। জ্যোতির্ময় এ মহামানবের গায়ে সাদা পাঞ্জাবী এবং পরনে সাদা লুঙ্গি মোবারক। আমি পরম ভক্তিভরে উঠে দাঁড়ালাম। আমার হৃদয় মন স্বর্গীয় শান্তিতে ভরে উঠল। স্বর্গীয় ঘ্রাণে আমার চারপাশ মোহিত হয়ে উঠল। অতঃপর মহাপুরুষ নিজেই দয়া করে তাঁর পরিচয় দিয়ে বললেন- আমিই আপনার আকাঙ্খিত দয়াল বাবাজান। মহান মুর্শেদের পাক জবানে এ পরিচয় লাভ করে আমি দয়াল বাবাজানের কদম মোবারকে লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকি। এ সময় দয়াল বাবাজান আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে আদর করলেন, অতঃপর আমাকে তাঁর সাথে তওবা পড়ার নির্দেশ দিলেন। আমি মহান মুর্শেদের সাথে তওবা পড়লাম। তারপর তিনি দয়া করে তাঁর ডান হাত মোবারকের শাহাদত অঙ্গুলি মোবারক দিয়ে আমার ক্বালবে স্পর্শ করে বললেন- কালাম মিয়া ! লক্ষ্য করুন, আপনার ক্বালরের ভিতর আমার নির্দেশে ‘আল্লাহ্’ জিকির জারি হচ্ছে। এভাবে সবক দেওয়ার পর বাবাজান নির্দেশ করলেন, আপনি নামাজের কায়দায় বসে খেয়াল ক্বালবে ডুবিয়ে আপন ক্বালবে ‘আল্লাহ্’ ‘আল্লাহ্’ জিকিরের স্পন্দন খেয়াল করুন। আমি বাবাজানের নির্দেশে তাই করলাম। কিছুক্ষণ পরে চক্ষু খুলে দেখি, দয়াল বাবাজান আমার সামনে নেই। বাবাজান কোথায় গেলেন, জানার জন্য আমি ব্যাকুল-বেকারার হয়ে উঠি। এ সময় হঠাৎ আকাশের দিকে লক্ষ্য করে দেখি, বাবাজান যেভাবে পাখির মত উড়ে উড়ে বাংলাদেশ থেকে আবুধাবীতে তশরিফ নিয়েছিলেন, অনুরূপভাবে তিনি উড়ে উড়ে আবার বাংলাদেশের দিকে চলে যাচ্ছেন। আমি তন্ময় হয়ে মহান মুর্শেদের গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে বাবাজান অদৃশ্য হয়ে গেলেন।”

ঘটনা এখানেই শেষ নয়, প্রায় বছরখানেক পরে আবুল কালাম সাহেব আবুধাবী থেকে বাংলাদেশে আসেন। অতঃপর ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি রাজধানী ঢাকার আরামবাগে এসে তার মহান মুর্শেদ, যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ মহামানবকে দেখার সাথে সাথে তিনি চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে যান। তারপর কি হয়েছে, কিছ্ইু বলতে পারেন না! হুঁশ ফিরে আসলে দেখেন, বাবাজান যে চেহারায়, যে পোশাকে আবুধাবীতে গিয়ে তাকে তাঁর দিদার দিয়ে মোহাম্মদী ইসলামের সবক দিয়েছিলেন, সেই একই চেহারায় একই পোশাকে তিনি আরামবাগের কুরসি মোবারকে উপবিষ্ট রয়েছেন। অতঃপর আবুল কালাম মুর্শেদ কেবলাজানের কাছে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ব্যক্ত করেন এবং আল্লাহ্ ও আল্লাহর বন্ধুর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। হে দয়াময় খোদা! লাখো শোকর আপনার নুরের কদম মোবারকে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here