সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সম্মানিত পিতার ওফাত দিবস পালন

8
583

নিজস্ব প্রতিনিধি: গত ১০ জুন, বুধবার বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সম্মানিত পিতার ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুল মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রেখে বাবে রহমতে উপস্থিত আশেকে রাসুলদের নিয়ে এই মিলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জুন, রবিবার ওফাত লাভ করেন।

হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) পরিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশে জন্মলাভ করেছিলেন বলেই আজন্ম তাঁর জীবনে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, আবেগ-অনুভূতির পরিস্ফুটন ঘটে। তাঁর পিতা আলহাজ হযরত সৈয়দ আবদুর রফিক (রহ.) তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তিনি সব সময় পিতার সাথে সাথে থেকে বিভিন্ন কাজ-কর্মে সহেযাগিতা করতেন। হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) শিক্ষিত লোক ছিলেন। তিনি যখন এন্ট্রাস পাস করেন, তখন তাঁকে দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য লোক তাঁদের বাড়ীতে সমবেত হয়েছিলেন। একজন স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে তিনি তদানীন্তন ব্রিটিশ শাসনকে মোটেও পছন্দ করতেন না। বরং ব্রিটিশের প্রতি তাঁর ঘৃণার কারণেই তিনি শিক্ষা জীবন শেষে চাকুরি করার পরিবর্তে স্বাধীন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি সে সময় উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশের গোলামি থেকে মুক্তি পেতে হলে শিক্ষার প্রয়োজন। এজন্য তিনি এলাকার মুসলমানদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারের জন্য নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

হযরত সৈয়দ আরদুর রশিদ সরকার (রহ.)-এর সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আশুগঞ্জে আগত ব্যবসায়ীরাও তাঁর কাছে টাকা-পয়সা আমানত রাখতো। তাঁর বিচক্ষণতা ও কর্তব্য নিষ্ঠার ফলে তিনি ব্যবসায় প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তাঁর পিতা হযরত সৈয়দ আবদুর রফিক (রহ.) তাঁদের একই গ্রামের ন্যায়পরায়ণ ও বিপুল বিত্তের অধিকারী স্বীয় বন্ধুপ্রতীম মমিন উল্লাহ্ বেপারীর সতী সাধ্বী ও পূণ্যবতী কন্যা হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.)-এর সাথে তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। আশুগঞ্জ এলাকায় মমিন উল্যাহ বেপারীর ব্যাপক খ্যাতি ছিল। তৎকালীন আশুগঞ্জ নৌবন্দরের স্বত্বাধিকারী ছিলেন এই মমিন উল্যাহ বেপারী ও বন্দে আলী বেপারী। তাঁদের এই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) জীবনের অধিকাংশ সময় তাঁদের বাড়ীর ঐতিহাসিক মসজিদের মোতোয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি মসজিদের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি আজীবন ধর্মীয় খেদমতে নিয়োজিত থেকে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জুন; ১৩৮৫ বঙ্গাব্দের ২৮ জ্যৈষ্ঠ, রবিবার এশার নামাজের সময় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাতের সময় অন্তর্চক্ষুস্মান দুই ব্যক্তি দেখতে পান- উর্ধ্বাকাশ হতে জ্যোতির্ময় কয়েকজন লোক একটি স্বর্ণের পালকি নিয়ে তাঁদের বাড়িতে এসেছেন। তারপর তাঁরা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের পিতাকে পালকিতে তুলে পুনরায় উর্ধ্বাকাশে চলে যান। ঘটনার পর পরই হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাযার সময় অন্তর্চক্ষুস্মান এক ব্যক্তি দেখতে পান- ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) তাঁর জানাযায় ইমামতি করছেন। ওই জানাযায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে জনৈক আশেকে রাসুল দেখতে পান, সাদা পোশাকধারী অগণিত লোক জানাযার নামাজ শেষে পূর্ব দিকের পাট ক্ষেতের উপর দিয়ে শূন্যে ভেসে ভেসে চলে যাচ্ছেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে, শূন্যে ভেসে যাওয়া লোকগলো সাধারণ মানুষ নয়, তাঁরা নিশ্চয়ই আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দা।

হযরত সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.)-কে আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুরে বাবে মোর্শেদ দেওয়ানবাগ শরীফে অবস্থিত মসজিদের পার্শ্বে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের পর মসজিদের ইমাম সাহেব প্রায়শ গভীর রাতে দেখতে পেতেন যে, এই রওজা শরীফ হতে নুরের জ্যোতি বের হয়ে আকাশ পর্যন্ত আলোকিত করে রেখেছে। বর্তমানে মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান তাঁর সম্মানিত পিতা-মাতার রওজা শরীফের সংস্কার কাজ করেন। ফলে বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশের আশেকে রাসুলগণ ফায়েজ বরকত রহমত হাসিলের জন্য তাঁদের রওজা শরীফ জিয়ারত করে থাকেন।

8 COMMENTS

  1. আলহামদুলিল্লাহ্ ! আল্লাহ মহান যুগলকে সর্বত্তম ও শ্রেষ্ঠ স্থানে অধিষ্ঠিত করুক ! লক্ষ-কোটি ছালাম ও কদমবুছি রইল !! আমীন

  2. জামানার মোজাদ্দেদ অলীদের বাদশাহ্ সূফী সম্রাট আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ হযরত মাহ্‌বুব-এ-খোদা শাহ্‌ দেওয়ানবাগী (মা:আ:) হুজুর কেবলাজানের সম্মানিত পিতা হযরত আবদুর রশিদ সরকার (রহ:) ওফাত দিবসে তাঁর কদম মোবারকে জানাই লাখো কোটি সালাম ও কদমবুসি।

  3. যুগ শ্রেষ্ঠ মহামানব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আকাশের পুর্নিমার চাঁদ সুফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব এ খোদা শাহ্‌ দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) দয়াল দরদী মোর্শেদ কেবলাজান এর সম্মানিত পিতা হযরত আবদুর রশিদ সরকার (রহঃ) এর ওফাত দিবসে জানাই লাখো কোটি সালাম ও কদমবুচি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here