সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাবে রহমতে আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন

0
93

বিশেষ সংবাদদাতা॥ আগামী ১৪ ডিসেম্বর, সোমবার মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের ৭১তম শুভ জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
এ সম্মেলনে বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের শতাধিক দেশের হাজার হাজার আশেকে রাসুল প্রতিনিধিগণ জুম ও ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্বের ২৬টি দেশের ২৯ জন প্রতিনিধি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশী ও নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিগণ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হজুুর কেবলাজানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মোর্শেদ কেবলাজানের জীবনী মোবারক ও তাঁর শিক্ষা দর্শন নিয়ে আলোচনা করবেন। দিনটি উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত আঞ্চলিক দরবার শরীফ, খানকাহ শরীফ, আশেকে রাসুল মজলিস-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বিশ্ব আশেকে রাসুল সংস্থা ও খানকাহ শরীফে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মিলাদ মাহফিল, কেক কাটা, মিষ্টি বিতরণ এবং পশু জবাই করে তাবারুক বিতরণসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করবেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সকাল ৯টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। অতঃপর হামদ, নাতে রাসুল (সা.), শানে মোর্শেদ গজল পরিবেশন করা হবে। সম্মেলনে সুধীজন ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিনিধিগণ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দরবার শরীফের প্রতিনিধিগণ মোর্শেদ কেবলাজানের জন্মদিনের আনন্দ প্রকাশ এবং কিভাবে আশেকে রাসুলগণ পালন করবেন তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের পূর্বপুরুষগণ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর আরবের মদীনা থেকে কাতার হয়ে বাংলাদেশে আগমন করেন। এদেশে এসে তাঁরা সরকার উপাধিতে পরিচিত হন। পিতা আলহাজ সৈয়দ আবদুর রশিদ সরকার (রহ.) ও মাতা হযরত সৈয়দা জোবেদা খাতুন (রহ.)-এর ৬ পুত্র ও ২ কন্যার মাঝে তিনি ৬ষ্ঠ। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজানের শুভ জন্মের পূর্ব রাতে তাঁর মাতা স্বপ্নে দেখেন- আকাশে ঈদের চাঁদ উদিত হয়েছে, সমস্ত মানুষ ঈদের চাঁদ দেখে আনন্দ করছে। ঐ চাঁদ দেখার জন্য তিনিও ঘর থেকে বাইরে আসেন। তখন চাঁদটি আকাশ থেকে তাঁর কোলে নেমে আসে। তারপর তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই মোবারকময় স্বপ্ন দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে, মহান আল্লাহ তাঁকে এক সৌভাগ্যবান সন্তান দান করবেন। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরের জন্মের পর আকিকার অনুষ্ঠানে এসে উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম ফখরে বাংলা মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব তাঁর নাম রাখেন, ‘মাহবুব-এ-খোদা’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর প্রিয়’।
সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান ইসলামি শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রীধারী আলেম ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী সাধক। তিনি কালের অতলতলে হারিয়ে যাওয়া বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের সমন্বিত চিরশান্তির ধর্ম মোহাম্মদী ইসলাম পুনরায় জগদবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন। তাঁর বহু সংস্কার রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা ও ও নামাজে হুজুরির শিক্ষা লাভ করে কোটি কোটি মানুষ আশেকে রাসূলে পরিণত হয়ে আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার ও নৈকট্য লাভ করছেন। তাঁর প্রণীত ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’সহ বহু কিতাবাদি সুধী পাঠক মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
এই দিনটি বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের জন্য আশেকে রাসুলগণ দেশে-বিদেশে আঞ্চলিক দরবার, খানকাহ শরীফ, আশেকে রাসুল পরিষদসহ এলাকায় এলাকায় আলোচনা অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহ্ফিল, কেক কাটা, পশু জবেহ করে তাবারুক বিতরণ, মিষ্টি বিতরণ, আলোকসজ্জাসহ নানাবিধ কর্মসূচী পালন করবেন। এই উপলক্ষ্যে আশেকে রাসুলেরা নিজ বাড়িতে সম্মিলিতভাবে খাসী, গরু, উট প্রভৃতি জবেহ করে মাংস বিরতণ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন।
এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে দেওয়ানবাগ শরীফ থেকে প্রকাশিত সূফী সম্রাট স্মরণিকা, মাসিক আত্মার বাণী, সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে।
পরিশেষে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলার ভাষণ ও আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here