স্পুটনিক-৫ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

0
306

অনলাইন ডেস্ক: স্নায়ুযুদ্ধ যুগে মহাকাশের লড়াইয়ে স্পুটনিক-১ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দেওয়ার স্মৃতি ফিরিয়ে রাশিয়া এবার করোনাভাইরাসের টিকার লড়াইয়েও প্রতীক করল সেই স্পুটনিককে।

টিকার নামকরণ করা হয়েছে ‘স্পুটনিক ৫’। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক এ ভ্যাকসিন বের করার সঙ্গে সঙ্গেই সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যসহ ২০টির বেশি দেশ রাশিয়ার কাছে ভ্যাকসিনের ১০০ কোটি ডোজ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। সূত্র : রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর বিশ্বে মহাকাশে প্রথম পাড়ি দিয়েছিল সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক-১’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’কে টেক্কা দেওয়ার সাফল্যে উদ্বেলিত হয়েছিল মস্কো। এবার টিকার লড়াইয়েও বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া কভিড-১৯ টিকার অনুমোদন দিয়েছে। টিকার এ অনুমোদনকে স্পুৎনিকের ওই সাফল্যের সঙ্গে এক করেই দেখছে রাশিয়া। টিকাটিকে বিজ্ঞানে রাশিয়ার শক্তির প্রমাণ হিসেবে চিত্রিত করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। গত মঙ্গলবার রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর টিকাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে আর কোনো বাধা নেই। বিশ্ব বাজারে এ টিকা এখন পরিচিতি পাবে বিশ্বের প্রথম সেই স্যাটেলাইটের নামে ‘স্পুটনিক ৫’ হিসেবে। রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল ডিমিত্রিয়েভ বলেছেন, এরই মধ্যে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশ থেকে ১০০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের অনুরোধ পেয়েছেন তারা। এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অক্টোবর মাস থেকেই রুশ জনগণের ভিতর করোনা ভাইরাসের এ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। এদিকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের দেশের পারানা রাজ্য কভিড-১৯ এর টিকা উৎপাদনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তেও রাশিয়ার টিকা উৎপাদন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে নিজেই চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে : রুশ ভ্যাকসিন বের হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, করোনা টিকা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিযোগিতা করছে না। গতকাল তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার। তিনি বলেন, এ টিকার উন্নয়ন কোনো প্রতিযোগিতার বিষয় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও নিবিড় যোগাযোগ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার তৈরি বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে দেশটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। তবে ডব্লিউএইচওর স্বীকৃতি পেতে হলে ভ্যাকসিনটির সুরক্ষাবিষয়ক যাবতীয় তথ্য খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র তারিক জাসারেভিক বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি এবং ডব্লিউএইচও ভ্যাকসিনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার বিষয়ে আলোচনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাই এটি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হবে না। একই সঙ্গে আমরা এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here