স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারণা

0
179

করোনা মহামারি দুর্যোগের এমন সঙ্কটকালে মানব সেবামূলক কর্মযোগে যেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার দায়ভার এসে বর্তায়, সেখানে উঠে এসেছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর পুকুর চুরির মতো হঠকারিতা।

রিজেন্ট হাসপাতালকে নিয়ে শুরু হয়েছে হরেক রকম অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগসহ তদন্তের মতো বিধিসম্মত কর্মপ্রক্রিয়া। রাজধানী ঢাকার পরিচিত এই হাসপাতালটির একটি উত্তরায় এবং অন্যটি মিরপুরে। প্রতারণার ভয়ঙ্কর অভিযোগে হাসপাতাল দুটি এখন সিলগালা করে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার যে দুর্বিসহ চিত্র উঠে এসেছে তা যেমন ভয়ঙ্কর তেমনি মানবতা বিবর্জিত বর্বরতা।

মানুষের স্বাস্থ্য এবং জীবনের ঝুঁকিকে পুঁজি করে যে অনৈতিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অপকর্ম চালানো হয়েছে তা এমন মহামারির দুঃসময়ে এক অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয়। নমুনা সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শনাক্তকরণ সবই এক অসহনীয় দুর্বৃত্তায়ন। ন্যায়-অন্যায় বোধেরও চরম স্খলন। মালিক থেকে আরম্ভ করে অধস্তন চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর এক অসৎ সিন্ডিকেট পুরো অব্যবস্থাপনায় জড়িত। পরীক্ষা ছাড়া শনাক্তকরণের সনদ দিয়ে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অপরাধীদের গা ঢাকা দেওয়ার সংবাদও উঠে আসে। খোদ চেয়ারম্যান ও এমডিই লাপাত্তা। ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আসামিদের খোঁজে র‌্যাব মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু করেছে। ৫ জনের হদিস পেয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রতারক মালিক সাহেদ করিম আড়ালে চলে গেছেন। এমডি মাসুদকেও পাওয়া যায়নি। সবার আগে প্রশ্ন উঠেছে এমন হাসপাতালকে কোভিড পরীক্ষা ও চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হলো কেন সেটাও খতিয়ে দেখা আবশ্যক। সাহেদ সম্পর্কে খোঁজ খবরে জানা যায় সে একজন প্রতারক। নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে বেশি বেগও পেতে হয়নি। হরেক রকম ভুয়া ও রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরা এই জোচ্চর এতদিন অনৈতিকভাবে চিকিৎসার মতো মানব সেবামূলক মহতী কাজকে ধুলায় লুণ্ঠিত করে আসছিল। চিকিৎসা সেবার আড়ালে তার ব্যবসায়িক পুঁজি হাতানোর ব্যাপারটি বরাবরই ছিল। হরেক রকম মামলার এই আসামি চিকিৎসার মতো মানব সেবামূলক কাজে কিভাবে জড়ালেন, সেটা নিয়েও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে তদন্ত করতে হবে। কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসা সেবায় যুক্ত হওয়া এক ধরনের অপরাধ। সনদপত্র ছাড়াই গত ৭ বছর ধরে তিনি হাসপাতাল দুটিকে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে কিভাবে চালিয়ে গেলেন, তেমন প্রভাব প্রতিপত্তিই বা কিভাবে কাজ করল, সেটাও খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরী। এমন অর্থ লুণ্ঠনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা ভুক্তভোগীদের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here