সৎ কর্মের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন করতে হয়

6
560

ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা
মানুষ কর্মের মাধ্যমে নিজের অবস্থা পরিবর্তন না করলে আল্লাহ্ তায়ালাও বান্দার অবস্থার পরিবর্তন করেন না। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে- “তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাজত করে। মহান আল্লাহ্ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ্ যখন কোনো জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” (সূরা রা’দ ১৩ : আয়াত ১১)

ভাগ্য বা তাকদীর হলো নিয়তি অর্থাৎ নির্ধারিত ভাগ্য। এ মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটবে মহান আল্লাহ্ তার পূর্বজ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সেসব কিছু নির্ধারণ করেছেন। এই বিশ্বাসকে ইসলামে তাকদীর বলা হয়।

ইসলামে তাকদীরের ওপর বিশ্বাস করা আল্লাহ্ তায়ালার রবুবিয়াত বা প্রভুত্বের ওপর বিশ্বাস করার অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম একটি রুকন।

ইসলামের এই নীতি বলছে যে, যে কোনো পরিবর্তনের জন্য প্রথমে মানুষকেই উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষ তার ভুল পদক্ষেপ বা সঠিক কাজের কারণেই দূর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের পথ প্রশস্ত করে। মহান আল্লাহ্ কোনো জাতিকে বিনা অপরাধে শাস্তি দেন না ।

ইমাম জাফর সাদিক (রহ.) বলেছেন, ‘এমন কোনো ব্যক্তি নেই যাকে দু’জন ফেরেশতা হেফাজত করছে না। কিন্তু যখন বিপদ বা দুর্ঘটনার ব্যাপারে মহান আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ চলে আসে তখন ফেরেশতারা আল্লাহ্র নির্দেশই মেনে নেন।’

তবে এখানে এটাও মনে রাখা দরকার, দু’জন ফেরেশতা সব সময়ই মানুষকে নানা বিপদ থেকে রক্ষা করছেন বলে এটা ভাবার সুযোগ নেই যে ব্যাপারটি নিঃশর্ত এবং মানুষ কোনো উঁচু স্থান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করতে চাইলেও বা অন্য কোনো আত্মঘাতি পদক্ষেপ নিতে চাইলেও মহান আল্লাহ্ ও তাঁর ফেরেশতারা তাকে রক্ষা করবেন! আর যখন মহান আল্লাহ্ই কোনো জাতিকে শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দেন তখন ফেরেশতারা মানুষের জন্য প্রহরার কাজ করে না।

‘আল্লাহ্ কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না সেই জাতি নিজেই নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে’- সূরা রাদের এই আয়াতটি একটি চিরন্তন ও ও সামগ্রীক উন্নতি অবনতির মূল নীতি। সামাজিক পরিবর্তন সংক্রান্ত ইসলামের এই নীতি আমাদের বলছে যে. যে কোনো পরিবর্তনের জন্য প্রথমে মানুষকেই উদ্যোগ নিতে হবে।
তাকদীরের ভালো-মন্দের উপর বিশ্বাস করা ইমানের একটি অন্যতম রুকন। (ফাতহুল বারী)

অতীতে যা ঘটেছে, বর্তমানে যা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সবই আল্লাহ্ তায়ালার চোখের সামনে রয়েছে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবই তিনি সমানভাবে জ্ঞাত। প্রত্যেকটি মানুষ কখন জন্মিবে, কখন মরবে আর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কোন মুহূর্তে কোন আমাল করবে সবই তাঁর জানা। মৃত্যুর পর কেউ জান্নাতে যাবে, না জাহান্নামে যাবে কিংবা প্রথমে জাহান্নামে যাওয়ার পর আবার জান্নাতে যাবে- এ সব কিছুই তাঁর জানা। মাতৃগর্ভে ১২০ দিন পর আল্লাহ্ ফেরেশতা পাঠিয়ে লিখিয়ে দেন কতটা রিজিক সে পাবে, কখন কোথায় মরবে, সে জান্নাতী হবে, না জাহান্নামী হবে। তিনি তো সবই জানেন, আর তাই তিনি লিখিয়ে দেন। ভাগ্যে লিখে দেওয়ার কারণে কেউ জান্নাতী-জাহান্নামী হয় না, নিজের আমলের কারণেই জান্নাতী জাহান্নামী হয়। বান্দার ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত আল্লাহর জানা কথাগুলো আগেই লিখে দেওয়ার নামই তাকদীর। তাকদীর গড়ার দায়-দায়িত্ব বান্দার, তাকদীর গড়ার স্বাধীনতা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাকে দিয়ে রেখেছেন।

পরম করুণাময় আল্লাহ্ বলেন, আল্লাহ্ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্ত করেন না, যে পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা বা ভাগ্য পরিবর্তন না করে। (সূরা রা’দ ১৩ : আয়াত ১১)
তার মানে মানুষ তার কর্মের দ্বারা ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।

মহান মালিকের দয়া ভিক্ষা চাই, আমরা যেন তাঁর ইবাদত ও দাসত্ব এবং সৎ কর্মের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভ করতে পারি। আমিন।

6 COMMENTS

  1. arsonjoydasহে দয়াময় দাসের প্রভু দয়া ভিক্ষা চাই ক্ষমা ভিক্ষা চাই ক্ষমা করো এই নিকৃষ্ট পাপি পাপিষ্ঠ দাসকে, দয়াময় তুমি নিজগুনে দয়া করে দাসের ভাগ্য হয়ে যাও দয়াল।
    তবেই প্রতিটা দাসেরা তোমার প্রতিটি নির্দেশ মেনে প্রকৃত দাসে রুপান্তরিত হতে পারবো দয়াময় দয়া ভিক্ষা চাই ক্ষমা করো সদয় হও দাসের প্রতি।

  2. হ্যা দয়াময় আপন্র পবিত্র কদম মোবারকে ফরিয়াদ আপনি দয়াকরে আমাদের সবাইকে আপনার দাসত্ব করে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করার তৌফিক ভিক্ষা দিন । আমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here