হযরত রাসুল (সা.)-এর নিজের হাত মোবারকে তৈরি খাদ্যে অফুরন্ত বরকত

0
204

ইমাম তাবারানী হযরত ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন- “আমি ছিলাম আসহাবে সুফফার অন্যতম সদস্য। আমার সঙ্গীরা ক্ষুধার অভিযোগ করল এবং আমাকে বলল- হে ওয়াসিলা! তুমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট যাও এবং আমাদের জন্য কিছু খাবার চেয়ে নিয়ে এসো। আমি রাসুলুুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে হাজির হলাম এবং আরজ করলাম- আসহাবে সুফফার লোকেরা ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। তারা আমাকে আপনার দরবারে পাঠিয়েছে। তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন- কোনো খাবার তৈরী আছে কি? হযরত আয়েশা (রা.) উত্তর দিলেন- এখন তো কোনো খাদ্য তৈরী নেই। তবে রুটির কিছু টুকরা আছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন- সেগুলোই আমার কাছে নিয়ে এসো। তিনি একটি পেয়ালায় রুটির টুকরোগুলো রেখে তাতে ঘি মিশিয়ে গরম পানি দ্বারা সারীদ বা হালুয়া তৈরি করলেন। এরপর তিনি বললেন- পেট ভরে আহার করো। তবে পেয়ালার পাশর্^ থেকে খাবে, মাঝখান থেকে খাবে না, কারণ মাঝখানে বরকত নাযিল হয়। এ দশ জন তৃপ্তি সহকারে আহার করলে, তিনি বললেন- হে ওয়াসিলা! আরো দশ জন নিয়ে এসো। আমি আরো দশ জন নিয়ে এলাম, তারাও তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে আহার করল। এবার তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথী এখন আর কয়জন বাকী আছে? আমি বললাম- আরো দশ জন বাকী আছে। তিনি বললেন- তাদেরকেও নিয়ে এসো। তারা এসেও তৃপ্তি সহকারে আহার করল। দেখা গেল, যে পরিমাণ সারীদ বা হালুয়া প্রথমে পেয়ালায় ছিল, তাই রয়ে গেছে। এবার রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.) আমাকে বললেন- হে ওয়াসিলা! পেয়ালাটি এবার তুমি আয়েশাকে দিয়ে এসো।’’ (ইমাম আবু নুয়াঈম কর্তৃক রচিত ‘দালায়েলুন নবুওয়্যাহ’ এবং হায়াতুস সাহাবা ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭৮ ও ৪৭৯)
তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী ৬ষ্ঠ খণ্ড থেকে সংকলিত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here