হযরত রাসুল (সা.)-এর বরকতে এক সাহাবি পাথর উঠালেই স্বর্ণ পেতেন

3
414
ছবি- প্রতীকী

বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বলেন, ‘‘আমি কোনো পাথর উঠালে এই আশা পোষণ করতাম যে, রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর বরকতে পাথরের নিচে যেন স্বর্ণ পেয়ে যাই। দেখা গেছে যে, হযরত রাসুল (সা.)-এর বরকতে ঠিকই আমি স্বর্ণ পেয়ে যেতাম।’ বর্ণিত আছে, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.), মুসলিম জাহানের ৩য় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে ওফাত লাভ করেন। ওফাতের সময় তার ঘরে এত স্বর্ণ ছিল যে, কুড়াল দিয়ে কেটে কেটে তা তাঁর ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছিল। স্বর্ণের পরিমান এত বিপুল ছিল যে, যে ব্যক্তি কুড়াল চালিয়ে ছিল সে কিছুক্ষণ পরে পরেই ক্লান্ত হয়ে পড়তো। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে, স্বর্ণের খনিই যেন আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর ৪ জন স্ত্রী ছিল। বনু কালব গোত্রের তামাজুর নামে এক স্ত্রীকে তিনি মৃত্যু পীড়ার সময় তালাক দেন। স্বামীর সম্পদের অংশ হিসেবে সে গোটা সম্পদের এক অষ্টমাংশের চতুর্থাংশ অর্থাৎ দু’পয়সা পেয়েছিল। আর এই দু’পয়সার অংশই ছিল বিপুল। অবশেষে সে মোটামুটি হিসাবে আশি হাজার দিনারেই সন্তুষ্ট হয়ে চলে যায়। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ৫০ হাজার দিনার আল্লাহর পথে দান করার অসিয়ত করে যান। এমনিভাবে তিনি ওফাত লাভের পূর্বে ৪ লক্ষ দিনার মূল্যমানের একটি বাগান আঝওয়াজে মুতাহ্হারাতকে (তথা হযরত রাসুল (সা.)-এর স্ত্রী গণকে) দান করে গিয়েছিলেন। একইভাবে লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান খয়রাতও করে গিয়েছিলেন। আর এ সবই তিনি আল্লাহ্র রাসুল (সা.)-এর বরকতে লাভ করেছিলেন।’’ (বায়হাকী শরীফ, বিশ্ব নবীর (দ.) তিনশত মো’জেযা; পৃষ্ঠা-১১২)

প্রিয় পাঠক! এভাবেই মহান রাব্বুল আলামিন নবুয়তের যুগে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর অনুসারী আশেকে রাসুল মু’মিনদেরকে হযরত রাসুল (সা.)-এর বরকতে অতীব দয়া করেছেন, অলৌকিকভাবে অঢেল সম্পদের অধিকারী করেছেন। আসলে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায় যে, আশেকে রাসুল হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর প্রতি এতটাই অগাধ ভালোবাসা ও দৃঢ় ইমান ছিল যে, তিনি যখন হযরত রাসুল (সা.)-এর অসিলায় পাথরের নিচে স্বর্ণ পাওয়ার আকাঙ্খা করতেন, তখনই মহান আল্লাহ্ দয়া করে হযরত রাসুল (সা.)-এর বরকতে পাথরের নিচে স্বর্ণের ব্যবস্থা করে দিতেন। এমনিভাবে নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগেও আল্লাহর এই সাহায্যের ধারা অব্যাহত আছে। যারা নবুয়তের যুগের ন্যায় বর্তমানে ঐ রাসুলের রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম অনুসরণ করে, তারা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই থাকুকনা কেন, যত বড় কঠিন সমস্যায় পতিত হোকনা কেন, তারা যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে তাঁর হাবিবের হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম আঁকড়িয়ে ধরে মহান আল্লাহ্ ও আল্লাহর বন্ধুর সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়, তবে তারা সাহায্য পেয়ে থাকেন।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here