হযরত রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন, তাঁর ধর্মই মোহাম্মদী ইসলাম। -ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা

0
253

বিশেষ সংবাদদাতা: আমাদের মোর্শেদ, মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর অন্যতম একটি সংস্কার হচ্ছে হযরত রাসুল (সা.) ধনী ছিলেন, তিনি গরিব ছিলেন না। কেন এই সংস্কার করতে হলো? কারণ আপনারা দেখেছেন রাস্তা-ঘাটে যখন ভিক্ষুক ভিক্ষা করতো লাইন ধরে চিৎকার করে বলতো, আমার আল্লাহ্ নবিজির নাম, আল্লাহর ওয়াস্তে কুছ দেদে বাবা! শুনছেন এরকম? ভিক্ষুকের একটি বড় গল্প ছিল এই আল্লাহ্ নবিজির নাম। রাসুল (সা.)-ও গরিব আমরাও গরিব, আমাদের কিছু ভিক্ষা দাও। আলেম-ওলামারা রাসুল না খেয়ে পেটে পাথর বেধেঁছেন; ৭০ তালিওয়ালা জামা পরেছেন; উনি ছিলেন গরিব। এই গপ্পোগুলো আমাদের আলেম-ওলামারাও করেন।


গত ৭ অক্টোবর, শুক্রবার সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।


ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, আমরা বলি, কুরআন আল্লাহর বাণী কিন্তু কুরআন তো আল্লাহর মুখ থেকে আমরা শুনিনি। হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন। মোহাম্মদ (সা.)-এর মুখ থেকে কুরআনুল কারিম এসেছে এবং মোহাম্মদই বলেছেন, এটি আল্লাহর বাণী। সেইজন্যে আমি আল্লাহর বাণী মানি। হযরত রাসুল (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ্ বলেন, মানুষ বলবে, আমাকে অনুসরণের কথা কিন্তু পরিতাপের বিষয় সে তো আমাকে দেখেইনি। সে আমাকে কীভাবে অনুসরণ করবে? তাহলে তোমাকে যারা অনুসরণ করবে, তোমাকে যারা ভালোবাসবে এবং তোমার চরিত্রে যারা চরিত্রবান হবে মূলে তারা আমাকেই ভালোবাসবে; মূলে তারা আমারই অনুসরণ করবে; তারা আমারই চরিত্রে চরিত্রবান হবে। তাহলে নবি মোহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহ্ তায়ালা মূলত যে ধর্ম দিয়েছেন, যে শান্তির বাণী প্রচার করতে বলেছেন, আমার মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহ.) তিনি একেই বলেছেন মোহাম্মদী ইসলাম অর্থাৎ মোহাম্মদ যে শান্তির বাণী প্রচার করেছেন।


তিনি বলেন, আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) মোহাম্মদী ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্যে চেষ্টা করেছেন। ইসলাম থেকে মোহাম্মদ (সা.)-কে আলাদা করে সরানোর ষড়যন্ত্রের একটি বড় ষড়যন্ত্র হলো নবি মোহাম্মদ (সা.) গরিব ছিলেন, তিনি ধনী ছিলেন না। তিনি একই দিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং একই দিনে মৃত্যুবরণ করেনে। আমাদের মোর্শেদ শাহ্ দেওয়ানবাগী বললেন, আমার মুরিদান ইসলামের সাথে মোহাম্মদ-এর নাম বলবে এবং তার নাম হবে মোহাম্মদী ইসলাম। এটি ছিল মোর্শেদ কেবলাজানের প্রথম কাজ। তারপরে মোহাম্মদী ইসলামের অনুসারীদের তিনি বললেন, ‘আশেকে রাসুল’ মানে যারা এই মোহাম্মদী ইসলাম অনুসরণ করবেন এবং যারা মোহাম্মদকে ইসলামের সাথে সংযুক্ত করবেন তাদের তিনি সম্মাননা সূচক উপাধি দিলেন, ‘আশেকে রাসুল’। সহীহ্ বোখারীর হাদিস হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে আমি মোহাম্মদকে বেশি ভালোবাসতে না পারবে সেই ব্যক্তি ইমানদার নয়। হযরত রাসূল (সা.) বলেন, সবার চেয়ে বেশি তুমি যদি আমাকে ভালোবাসতে না পারো তুমি ইমানদার নয়। যদি রাসুল (সা.) বলে থাকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে আর আমার মোর্শেদ যদি বলে থাকে আশেকে রাসুল, উভয়ের কথা কি একই রকম না আলাদা? একই রকম। তাহলে এই আশেকে রাসুল শাহ্ দেওয়ানবাগী বানাননি, রাসুল যা বলেছেন, শাহ্ দেওয়ানবাগী তা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই জন্যেই তো আমরা ওনাকে বলি, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী।


ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, আমার মোর্শেদ কেবলাজান ৭১ বছর পরিশ্রম করেছেন এবং সংস্কার করেছেন যাতে আমরা রাসুলকে অবমাননা না করি, যাতে আমরা সেই মোহাম্মদকে ভুলে না যাই। বলুন তো, আপনার-আমার শাফায়তকারী কে? দয়াল রাসুল (সা.)। যিনি আপনার জন্যে সুপারিশ করবেন; যিনি আপনার জন্যে সাক্ষ্য দিবেন; যিনি আপনার জন্যে আল্লাহর কাছে বলবেন, সে আমার আশেক ছিল আর আপনি দুনিয়ায় বসে তাকে যদি অবমাননা করেন তাহলে আপনি কি সুপারিশ পাওয়ার আশা করতে পারেন; সাক্ষ্য পাওয়ার আশা করতে পারেন? সারা জীবনের কর্মের জন্যে যে মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোজতবা (সা.) আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, আপনার কি তাকে সন্তুষ্ট করতে হবে না? হবে। যদি আমি বলি, আমার নবি মোহাম্মদ ছিল গরিব? তিনি কি সন্তুষ্ট হবেন যদি আমি বলি, তিনি ৭০ তালিওয়ালা? তিনি অসন্তুষ্ট হবেন। আল্লাহর বন্ধু শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহ.) আমাদের ইমানে কায়েম রেখেছেন এবং আমাদের তার আদর্শে কায়েম রেখেছেন। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের জায়গা থেকে ঐ নবি মোহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শকে সমুন্নত করতে। সেজন্যে আমাদের জানতে হবে হযরত রাসুল (সা.) আসলে গরিব ছিলেন না, এগুলো ষড়যন্ত্র। শুধু তাকে ইসলাম থেকে বাদ দেওয়ার জন্যে, আপনার মন থেকে বাদ দেওয়ার জন্যে এই ষড়যন্ত্রগুলো করেছে যে, তিনি গরিব ছিলেন; তিনি একইদিনে মৃত্যুবরণ করেছেন হাসবেন না, কাঁদবেনও না।


পরিশেষে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব, ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তাঁর বাণী মোবারক প্রদান শেষে আখেরি মোনাজাত প্রদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here