হুয়াওয়ের ফাইভজি কিট নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য, নেপথ্যে মার্কিন চাপ!

0
223

প্রযুক্তি ডেস্ক: ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় হুয়াওয়ের সরঞ্জাম (যন্ত্রাংশ) নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ধাপে ধাপে হুয়াওয়ের সব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হবে। এর আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, চীনা এই কম্পানিটির কিছু সীমাবদ্ধ ভূমিকা থাকতে পারে টেলিকম নেটওয়ার্কের কিট সরবরাহের ক্ষেত্রে। কিন্তু ছয় মাস পর আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী বছর থেকে নতুন কোনো সরঞ্জাম ইনস্টল করতে পারবে না হুয়াওয়ে।

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করে সম্প্রতি হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন। এবার তাদের প্রধান মিত্র যুক্তরাজ্যও একই সিদ্ধান্ত নিল। ৩১ ডিসেম্বরের পর আর কোনো হুয়াওয়ের ফাইভ-জি পণ্য কিনতে পারবে না মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করেছিল, হুয়াওয়ে ফাইভজি নেটওয়ার্কের সংবেদনশীল কিছু সরঞ্জাম সরবরাহ থেকে দূরে রাখা হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অংশের ৩৫ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বর্তমানে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে চীনা এই কোম্পানিটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ করেই যুক্তরাজ্যের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে মূল কারণটি হলো মার্কিন চাপ। যক্তরাজ্যের এক কর্মকর্তা এ ধরনের কাজকে কোম্পানিটির ওপর ‘নিরলস চাপ’ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারাভিযান বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে মার্কিন এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চীন এই সংস্থাটিকে যুক্তরাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তি, চুরি বা আক্রমণ করতে প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা এই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্লায়েন্টদের কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেবেন না। তাঁর আগেই তিনি কোম্পানি বন্ধ করে দেবেন।

হুয়াওয়েকে মার্কিন চিপ প্রযুক্তিতে সহায়তা করার ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ করেছে নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো। মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির ওপর চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারকে একটি পর্যালোচনা শুরু করতে বাধ্য করে। তবে যুক্তরাজ্যের এমন সিদ্ধান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোর থেকেও ভূ-রাজনীতি এবং ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রভাব বেশি পড়বে। কারণ গত ছয় মাসে চীনের প্রতি দেশ দুটির মনোভাব আরো শক্ত হয়েছে।

করোনা ভাইরাসসংকট এবং এই সংকট মোকাবেলার পদ্ধতি নিয়ে চীনের ওপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে উদ্বেগ বেড়েছে। হংকং নিয়েও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বাড়ছে। বর্তমানে চীন আরো কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে কি না তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে সারা বিশ্বে। এমন এক পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে চীনা কোম্পানি। তবে বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here