৯ মাসে সর্বনিম্ন রপ্তানি আয়

0
44


বাণিজ্য ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রপ্তানি আয়ে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই চমক দেখানো রপ্তানি আয় হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছে। প্রতি মাসেই গড়ে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় মে মাসে এসে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এ সময় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, রপ্তানির এ পরিমাণ চলতি অর্থবছরের গত ৯ মাসের সর্বনিম্ন। অবশ্য গত বছরের মে মাসের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। ওই মাসের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩১০ কোটি ডলার।
গত বছরের আগস্টে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৩৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর পর থেকে প্রতি মাসেই ৪০০ কোটি (চার বিলিয়ন) ডলারের বেশি রপ্তানি দেশে এসেছে। সবচেয়ে বেশি এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে, ৪৯০ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
রপ্তানি কমার কারণ জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কাঁচামালের বর্ধিত মূল্য এবং বিরাজমান জ্বালানি পরিস্থিতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। করোনা চলাকালীন মানুষকে দীর্ঘ সময় ঘরে থাকতে হয়েছে। তাই লকডাউনের পরে তারা আরো কেনাকাটা করেছে, যা আগের মাসগুলোতে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতির সমস্যায় পড়েছে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘আগের কয়েক মাসে আমরা পণ্যের ক্রয়াদেশে যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখেছি, এখন তা কমছে। মে মাসের তথ্যে এরই মধ্যে রপ্তানি আয় কমেছে। দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে এ বিষয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ’
ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, সার্বিক রপ্তানি আয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাবে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে সব মিলিয়ে চার হাজার ৭১৭ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪.০৯ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেশি এসেছে ১৮.৩৪ শতাংশ।
পণ্য রপ্তানিতে বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তিন হাজার ৮৫২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪.৮৭ শতাংশ বেশি। পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৯৮ কোটি ডলার, ওভেন গার্মেন্ট রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৭৫৩ কোটি ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here