বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় খোদায়ি গজব

12
837
ছবিঃ প্রতীকী

বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শ গ্রহণ করে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ আত্মাশুদ্ধির মাধ্যমে একদিকে যেমন আলোকিত মানুষ হয়ে আশেকে রাসুল হচ্ছেন, অন্যদিকে তারা আপদ-বিপদ, বালা-মুসিবতে পড়ে প্রতিনিয়ত মহান মোর্শেদের অলৌকিক দয়া ও সাহায্য লাভ করছেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের আশেকদের মাঝে সংঘটিত বহু অলৌকিক কারামত থেকে পাঠকদের উদ্দেশে বর্ণনাকারীর হুবহু বর্ণনায় একটি অলৌকিক কারামত উপস্থাপন করা হলো-

বর্ণনাকারী বলেন- আামি আশেকে রাসুল আবদুল্লাহ্। ঘটনার দিন আমি মহান মোর্শেদের নির্দেশে আমার এলাকার বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের দাওয়াত প্রদান ও প্রচারকল্পে সম্মেলনের লিফলেট বিতরণ করছিলাম। হাজার হাজার লোকের হাতে এভাবে দাওয়াতপত্র পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমার এলাকায় সম্মেলনের খেদমতে শরিক হই। তবে জনৈক ব্যক্তি আমার এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াল। আমি তার হাতে লিফলেট দিলে সে পড়া শুরু করে। সে লিফলেটে মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের নাম মোবারক দেখে এবং এটি যে দেওয়ানবাগ শরীফের সম্মেলনের দাওয়াতপত্র, তা প্রত্যক্ষ করে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। ক্রোধে ফেটে পড়ে। মহান মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং আশেকে রাসুল সম্মেলনের ব্যাপারে বদদোয়া করতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। আমি বললাম, ভাই! আপনাকে লিফলেট দিয়ে দাওয়াত দিয়েছি, হয় আপনি দাওয়াত গ্রহণ করবেন, না হয় আমার লিফলেট আমাকে ফিরিয়ে দেবেন। আল্লাহর বন্ধুকে গালি দেয়ার অধিকার আপনার নেই। উপস্থিত লোকজন আমার এ কথা যুক্তিপূর্ণ মনে করে একমত হলেও ঐ লোকটি আমার প্রতি আরো বেশি রাগান্বিত হলো। মনে হলো, লোকটি হিংসা ও ক্রোধের আগুনে জ্বলছিল। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমার গালে কষে পর পর দুটি থাপ্পর বসিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার পরও সে আমার মহান মোর্শেদকে গালমন্দ করতে থাকে। আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। আমি শুধু বললাম, কাজটি তুমি ভালো করলে না। আমার মোর্শেদ যদি আল্লাহর বন্ধু হয়ে থাকেন, তাহলে এর ফল তুমি পাবেই। অবশ্যই তুমি আল্লাহর গজবে পড়বে। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ্ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- “যে ব্যক্তি আমার অলী-বন্ধুর সাথ শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।” (বোখারি শরিফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৯৬৩; মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা-১৯৭)

এভাবে মহান মোর্শেদের শানে চরম বেয়াদবি করে লোকটি চলে গেলো। লোকটি আমার এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় আমি তাকে এবং তার বাড়িঘর আগে থেকেই চিনি। এদিকে মহান আল্লাহ্ তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। লোকটি খোদায়ি গজবে শাস্তিপ্রাপ্ত হলো। রাত থেকে তার জিহ্বায় অস্বাভাবিক ব্যথা শুরু হলো, সকাল বেলায় মুখের ভিতর থেকে জিহ্বা বেরিয়ে এলো। জিহ্বা আর ভিতরে ঢোকানো যাচ্ছে না। জবান বন্ধ, ফিসফিস করে ইশারায় কিছু একটা বোঝাতে পারে। লোকটির জীবনে করুণ পরিণতি নেমে এলো। শাস্তির ভয়াবহতা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো। খাওয়া দাওয়া বন্ধ। জিহ্বা বের হয়ে আসাতে মৌখিক সকল কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি লোকটির জবিন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তার পরিবারকেও অশান্তির কালো থাবা গ্রাস করে। অবশেষে উপায়ান্তর না দেখে লোকটির জন্মদাতা পিতা বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানের নিকট ক্ষমা চাওয়ার জন্য ছেলেকে নিয়ে আসে। মহান মোর্শেদ তখন বাবে রহমতে হুজরা শরিফে কুরসি মোবারকে উপবিষ্ট ছিলেন। লোকটির পিতা সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের কাছে ঘটনা খুলে বলে যে, তার ছেলে আল্লাহর অলীর সাথে বেয়াদবি করেছে, ফলে সে খোদায়ি গজবে পতিত হয়েছে। এখন আল্লাহর বন্ধুর কাছে তার ছেলে ক্ষমাপ্রার্থী। সে বিশ্বাস করে আল্লাহর অলী যদি দয়া করে তার ছেলেকে ক্ষমা করেন, তবেই সে এই গজব থেকে মুক্তি পাবে। এ সময় মহান মোর্শেদ গজবে পতিত লোকটির দিকে তাকিয়ে দয়া করে বললেন- ‘কী হয়েছে আপনার, কী বলেছিলেন?’ লোকটি কোনো কথা বলতে পারছে না। যার উপরে খোদায়ি গজব পড়ছে, সে আল্লাহ্ ও তাঁর বন্ধুর দয়া বিহনে কথা বলবে কীভাবে? প্রায় ঘন্টা খানেক আজিজি করার পর মহান আল্লাহ্ তাঁর অলী-বন্ধুর অসিলায় তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকালেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। মুহূর্তেই লোকটির গজবের চিহ্ন মুছে গেলো। জিহ্বা মুখের ভিতর চলে গেলো। মুখ স্বাভাবিক হলো এবং সে কথা বলতে শুরু করল। অতঃপর বাবাজানের পরশময় কদম মোবারকে লুটিয়ে পড়ে পুনরায় ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে আল্লাহর বন্ধুর দয়া কামনা করে বাবে রহমত থেকে বিদায় নিলো।”

[তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-২২৮-২২৯ থেকে সংকলিত]

12 COMMENTS

  1. “যে ব্যক্তি আমার অলী-বন্ধুর সাথ শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।” (বোখারি শরিফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৯৬৩; মেশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা-১৯৭

    মহান আল্লাহ তাআলার এই বাণী মোবারক বাস্তবে প্রমাণ করে দিলেন এবং অলী- আউলিয়াগন যে কত দয়ালু আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন আমিন

  2. আল্লাহর অলী বন্ধুদের সাথে বেয়াদবীর ফল সব বেয়াদবরাই পেয়ে থাকে, কেউ আগে আর কেউ পরে,কেউ বুঝতে পারে আর কেউ বুঝতে পারে না।
    মহান আল্লাহ্ তার অলী বন্ধুদের সম্মান করার তৌফীক ভিক্ষা দিন, আমিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here